Search This Blog

Showing posts with label LIS. Show all posts
Showing posts with label LIS. Show all posts

Wednesday, June 6, 2018

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা।



গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নের বাহন। একটি জাতির মেধা, মনন, ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারণ ও লালনপালনকারী হিসেবে গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সর্বসাধারণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রয়েছে। তাই গ্রন্থাগারকে বলা হয় ‘জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়’। ইংরেজিতে একটি কথা আছে - Education is the backbone of a nation. মেরুদন্ড ছাড়া যেমন কোন মানুষ চলতে পারে না, তদ্রুপ শিক্ষা ব্যতীত কোন জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট যে শিক্ষা তা হল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সফলতার সহায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হল গ্রন্থাগার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হৃৎপিন্ড বলে অভিহিত করা হয়।

সভ্যতা ও সংস্কৃতির আদিগন্ত পর্যালোচনা করলে লক্ষ্য করা যায়, মানুষ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে তার অনুভূতি, ভাবনা-চিন্তা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লিপিবদ্ধ করে রাখতে। আর এই লিপিবদ্ধ করে রাখার উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের, সমাজের সঙ্গে সমাজের, অতীতের সঙ্গে বর্তমানের ভবিষ্যতের নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করা। সভ্যতার আদি থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত হাজার হাজার বছর ধরে কালের প্রবহমান ধারায় মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের বিচিত্র ও সমৃদ্ধি গতিপথে বহু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। মানুষের পাঠ-চাহিদা মিটানোর জন্য বিচিত্র উপাদান সংগ্রহ, সংগঠন ও সংরক্ষণের এ মহান কাজটি সম্পাদন করার তাগিদেই প্রয়োজন হয়েছে গ্রন্থাগারের।

গ্রন্থাগার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথার্থই বলেছেন: "মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, ঘুমন্ত শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত।" সারা বিশ্বের মনীষীদের চিন্তার সঙ্গে মহামিলনের পবিত্র স্থান গ্রন্থাগার। টুপার বলেছিলেন, "বই হলো আমাদের বর্তমান ও চিরদিনের পরম বন্ধু। আর এই বন্ধুর সঙ্গে সখ্য গড়তে হলে যেতে হবে লাইব্রেরিতে।" কারণ বইয়ের নির্ভরশীল আশ্রয়স্থল হচ্ছে লাইব্রেরি। জ্ঞানের তকমায় পূর্ণতা লাভে লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম। সৈয়দ মোস্তফা আলীর বইকেনা প্রবন্ধে বলেছেন, "বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।"

মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক জীব। বুদ্ধি ও মননের অনুশীলনের প্রয়োজনে মানুষ জ্ঞান আহরণ করে। এই জ্ঞান আহরণের দুটো উপায়। একটি দেশভ্রমণ, অন্যটি গ্রন্থপাঠ। দেশভ্রমণ ব্যয়সাপেক্ষ তাই সবার জন্য সম্ভব নয়। সে তুলনায় জ্ঞান আহরণের জন্য গ্রন্থপাঠ প্রকৃষ্টতম উপায়। কিন্তু জ্ঞানভান্ডারের বিচিত্র সমারোহ একজীবনে সংগ্রহ করা ও পাঠ করা সম্ভব হয় না। এই অসাধ্য সাধন কিছুটা হলেও সম্ভব হয় গ্রন্থাগারের মাধ্যমে।  গ্রন্থাগারের বিশাল সংগ্রহশালায় নিজের রুচি, মনন ও প্রয়োজনীয় গ্রন্থ পাওয়া যায়। এই কারণে জ্ঞানার্জনের জন্য গ্রন্থাগার ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজন।

মানুষের দেহের পুষ্টি জোগায় খাদ্য, আর বই জোগায় মনের খাদ্য। তাই ‘বই’ সভ্য মানুষের নিত্যসঙ্গী। জ্ঞানের বহিঃ প্রকাশ হচ্ছে গ্রন্থ। লেখক লেখেন, প্রকাশক ছাপেন, বিক্রেতা বই বিক্রি করেন আর গ্রন্থাগারিক তা সংগ্রহ করে যথাযথ বিন্যাস করেন এবং পাঠক সমাজ ঐসব উপাদান থেকে মনের খোরাক এবং জ্ঞানলাভে সমর্থ হন।

কম লেখাপড়া জানা ও গরিব মানুষের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে, তেমনি জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগারের ভূমিকা অভাবনীয়। গ্রন্থাগারে থাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচিত্র বিষয়ের গ্রন্থ। আগ্রহী পাঠকের জন্যে গ্রন্থাগার জ্ঞানার্জনের যে সুযোগ করে দেয়, সে সুযোগ অন্য কোথাও নেই। গ্রন্থাগার গ্রন্থের বিশাল সংগ্রহশালা, যা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করে জ্ঞানের মণিমুক্তা সংগ্রহের সুযোগ পায়। গ্রন্থাগারের আয়োজন সর্বসাধারণের জন্যে অবারিত। চিন্তাশীল মানুষের কাছে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা অনেক বেশি।

গ্রন্থাগার জ্ঞান আহরণের সহজ মাধ্যম। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ মৌলিক চাহিদা মেটাতেই আমরা হিমশিম খাই। তাই আমাদের পক্ষে বই কিনে পড়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক প্রতিদিনের টিফিন-পিরিয়ড বা অন্য অবসর সময়টা আড্ডা ও গল্প-গুজবের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু একটা লাইব্রেরি থাকলে ছাত্র-শিক্ষক তাদের প্রতিদিনের অবসর সময়টা পড়ালেখায় কাটাতে পারেন। গণতন্ত্রের সাফল্যে গ্রন্থাগারের ভূমিকা গণমাধ্যমের চেয়ে কম নয়। আধুনিক বিশ্বে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা দিনে দিনে বাড়ছে। গ্রন্থাগার সকলের জন্য উন্মুক্ত।

প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, ‘আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে। আমার মনে হয়, এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি।’  লাইব্রেরি হচ্ছে এক রকম মনের হাসপাতাল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আমাদের মৌলিক চাহিদাসমূহের দুটি। কাজেই আমাদের দেশে হাসপাতালের সঙ্গে সঙ্গে গ্রন্থাগারও স্থাপন করতে হবে। ল্যাটিন শব্দ লিবার (Liber) থেকে লিবরারিয়াম (Libraium) থেকে ইংরেজি (Library) শব্দের উৎপত্তি। ইংরেজি Library-কে বাংলায় গ্রন্থাগার নামে অভিহিত করা হয়। গ্রন্থ মানে বই, আগার মানে গৃহ অর্থাৎ বই রাখার গৃহকে গ্রন্থাগার বলা হয়।

লেখক জাকারিয়া শেখ, এমএসএস, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা।

তথ্যসূত্র:
১. ড. মোঃ মিজানুর রহমান, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পরিচিতি-১, ঢাকা: নিউ প্রগতি প্রকাশনী, ২০১৫, ৪৬১ পৃষ্ঠা।

Wednesday, May 16, 2018

গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।


**গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা ও কার্যাবলী:
গ্রন্থাগারের সমস্ত কর্মকান্ড গ্রন্থাগারিকের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়া সম্পন্ন হতে পারে না। সামগ্রী নির্বাচন ও সংগ্রহ থেকে শুরু করে গবেষক ও অগ্রসর পাঠকের জন্য বিশেষায়িত সেবা প্রদান পর্যন্ত একজন গ্রন্থাগারিককে তথ্য ব্যবস্থাপনার নানামুখী দায়িত্ব পালন করতে হয়। এখানে যেমন সুষ্ঠু পরিকল্পনার কথা আসে তেমনি আসে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার কথাও। গ্রন্থাগারে প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও কারিগারি কর্মকান্ডে গ্রন্থাগারিকের কার্যাবলীসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো-

ক) গ্রন্থাগারিকের প্রশাসনিক কার্যাবলী:  
গ্রন্থাগারিক গ্রন্থাগারে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেন। এজন্য প্রশাসনিক নানা কাজে তাঁকে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করতে হয়। নি¤েœ তাঁর ভূমিকা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো-

১। নের্তত্ব প্রদান ও সমন্বয় সাধন: গ্রন্থাগারে সার্বিক প্রশাসনিক কর্মকান্ডে নের্তত্ব প্রদান ও সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

২। বিধিমালা প্রণয়ন: গ্রন্থাগারে বিধিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৩। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন: গ্রন্থাগারে বিভিন্ন কাজের সুষ্ঠু সম্পাদনের জন্য জনশক্তির পরিকল্পনা, পদমর্যাদা, দায়িত্ব-কর্তব্য ও বেতন স্কেল নির্ধারণ করা গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৪। নীতিমালার পরিবর্তন বা সংশোধন: গ্রন্থাগারে নীতিমালা নির্ধারণ, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ ও বাস্তবতার নিরিখে নীতিমালা পরিবর্তন বা সংশোধন উদ্যোগ গ্রহণ করাও গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৫। কর্মীদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: কর্মীদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ মানব সম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৬। কর্ম সম্পাদন: গ্রন্থাগার কমিটি সভা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রাসঙ্গিক যাবতীয় কর্ম সম্পাদন।

৭। মজুদ যাচাই: মজুদ যাচাই কর্মকান্ডের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও আন্ত: বিভাগীয় কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন।

৮। সামগ্রী ছাটাই: গ্রন্থাগার সামগ্রী ছাঁটাইয়ের অনুমোদন গ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় সাধন ও বাস্তবায়ন করা গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৯। ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম: পাঠক ও নতুন কর্শীদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা গ্রন্থাগারিকের অন্যতম কাজ।

১০। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড: গ্রন্থাগারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকান্ড মূল্যায়ণ এবং সংশোধন বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা গ্রন্থাগারিকের অন্যতমকাজ। 

খ) গ্রন্থাগারিকের ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলী:
গ্রন্থাগারে সেবা ও সুব্যবস্থাপনা না থাকলে গ্রন্থাগারের সার্বিক কার্যক্রম ব্যহত হবে এবং এটি পাঠকদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হবে। গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপক হিসেবে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো নিম্নরূপ-

১। ব্যবস্থা কর্মকান্ডে নের্তৃত্ব দান: গ্রন্থাগারের প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে ব্যবস্থাপনা কর্মকান্ডে নের্তৃত্বদান হচ্ছে গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

২। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন: গ্রন্থাগারের সেবা ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করাও গ্রন্থাগারিকের অন্যতম কাজ।

৩। বাজেট প্রণয়ন: গ্রন্থাগারের যাবতীয় বাজেট প্রণয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা অপরিসীম।

৪। যাবতীয় কাজের সমন্বয়: গ্রন্থাাগার কর্মীদের মাঝে দায়িত্ব বণ্টন, নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধায়ন ও যাবতীয় কাজের সমন্বয় সাধন করার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা রয়েছে।

৫। গ্রন্থাগারের সঠিক সংগ্রহের ক্ষেত্রে: গ্রন্থাগার সংগ্রহর সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

৬। গ্রন্থাগার সামগ্রীর সুরক্ষা: গ্রন্থাগার সামগ্রীর সুরক্ষার নিশ্চিতকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগারকের ভূমিকা রয়েছে।

৭। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ: গ্রন্থাগারের সঙ্গে সামগ্রী সরবরাহকারী, পাঠক, পৃষ্ঠপোষকসহ বিভিন্ন পক্ষের যোগাযোগ তত্ত্বাবধান করা গ্রন্থাগারিকের অন্যতম একটি কাজ।

৮। জনসংযোগ কার্যাবলী: গ্রন্থাগারে জনসংযোগ কার্যাবলী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা রয়েছে।

গ) গ্রন্থাগারিকের কারিগরি কার্যাবলী:
পাঠকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর সেবাদানের প্রয়োজনে গ্রন্থাগারে নানাবিধ কারিগরি কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে হয়। গ্রন্থাগারিকের কারিগরি কার্যাবলীসমূহ নিম্নরূপ-

১। কারিগরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন:
গ্রন্থাগার সামগ্রী সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ, তথ্যপ্রযুক্তিরপ্রয়োগসহ যাবতীয় কারিগরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গ্রন্থগারিকের কাজ।

২। গ্রন্থাগারে কারিগরি চাহিদা পূরণ: বাস্তব তথ্যের আলোকে গ্রন্থাগারে কারিগরি চাহিদা নিরূপণ ও তা পূরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩। কারিগরি সেবা সমূহের নকশা প্রণয়ন: গ্রন্থাগারে কারিগরি সেবা সমূহের নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ।

৪। বিভিন্ন সেবা প্রদান: গ্রন্থাগারে বিশেষায়িত সেবা, যেমন- চলতি তথ্যসেবা ও নির্বাচিত তথ্যসেবা, গ্রন্থপঞ্জি সেবা, অনুবাদ সেবা ইত্যাদির চাহিদা নিরূপণ ও এসব সেবা প্রদানের জন্য গ্রন্থাগারের সক্ষমতা নিরূপণ।

৫। যাবতীয় কাজের তত্ত্বাবধান: গ্রন্থাগারের যাবতীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা রয়েছে।

৬। রেফারেন্স ও নির্দেশনা কর্মকান্ডের প্রকৃতি নির্ধারণ: গ্রন্থাগারে রেফারেন্স ও নির্দেশনা কর্মকান্ডের প্রকৃতি নির্ধারণ ও এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা গ্রন্থাগারিকের কাজ।

৭। প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ সংগ্রহ: গ্রন্থাগারে কম্পিউটারভিত্তিক সেবার নকশা প্রণয়ন এবং এসব সেবা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদ সংগ্রহ করা গ্রন্থাগারিকের কাজ।

                                                   পরিশেষে বলা যায় যে, একটি গ্রন্থাগার পরিচালনা করার জন্য গ্রন্থাগারিককে অনেক কাজ করতে হয়। গ্রন্থাগারিককে গ্রন্থাগারের সংগ্রহ বৃদ্ধি, গ্রন্থাগার সম্পদের উন্নয়ন ছাড়াও যাবতীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হয়।

Tuesday, May 15, 2018

গ্রন্থাগারিকতা কাকে বলে? গ্রন্থাগারিকতার মূলনীতি কি?


 ভূমিকা: প্রচীনকাল থেকে গ্রন্থাগার একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগনিত। মানুষ নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশৃঙ্খল জীবন পরিহার করে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করে। তখন থেকেই সমাজের প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান রুপে গ্রন্থাগারের জন্ম। আর এই গ্রন্থাগারের সার্বিক কার্যক্রমকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য যারা পেশাগত শিক্ষা ও দক্ষতা গ্রহণ করে তাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করে থাকেন সেটাই গ্রন্থগারিকতা।

**গ্রন্থাগারিকতা:
সাধারনত যেখানে জ্ঞান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয় তাকে গ্রন্থাগার বলা হয়। এই গ্রন্থাগারে জ্ঞান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ করার জন্য জনবলের প্রয়োজন হয়।  আর যারা এই কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সেটাই গ্রন্থাগারিকতা। গ্রন্থাগারে আগত সকল ব্যবহারকারী যে সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে আসেন, তার সঠিক উত্তর অল্প সময়ের মধ্যে যিনি দিতে পারেন সহজ কথায় তাকেই গ্রন্থাগারিক বলা হয়। অর্থাৎ পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সামগ্রীর সংস্থান করা, সংগ্রহ করা, প্রক্রিয়াকরণ ও সেবা দেওয়ার সাথে এবং গ্রন্থাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার সাথে যিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকেন তাকেই গ্রন্থাগারিক বলা হয়। গ্রন্থাগারে আগত ব্যবহারকারী যে প্রশ্ন নিয়ে আসেন গ্রন্থাগারিক অতি অল্প সময়ের মধ্যে তার সঠিক উত্তর দেন। আর গ্রন্থাগারিকের পেশাই হচ্ছে গ্রন্থাগারিকতা।

**গ্রন্থাগারিকতার মূলনীতিসমূহ:

গ্রন্থাগারিকতার মূলনীতি সঠিক পাঠককে সঠিক সময়ে সঠিক সেবা প্রদানের উপর প্রতিষ্ঠিত। গ্রন্থাগারিকতার কেন্দ্রে আছে মানবসেবা। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানী চ. ঝযধপযধভ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২৮ টি জাতীয় পর্যায়ের গ্রন্থাগার সমিতির মূলনীতিকে বিশ্লেষণ করে গ্রন্থাগারিকতার কিছু মূলনীতি চিহ্নিত করেছেন। নি¤েœ সেগুলো আলোচনা করা হলো-

১। গোপনীয়তা ও একান্ততা: গ্রন্থাগারিকগণ গাঠকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও একান্ততাকে সম্মান করবেন। এমনভাবে গ্রন্থাগার বা তথ্যসেবা প্রদান কারবেন না যা মানুষের মৌলিক অধিকার ভঙ্গ বা বিঘিœত করে।

২। সততা: গ্রন্থাগারিকতা পেশার ভিত্তিমূলে আছে সততার সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ। মানুষের তথ্য চাহিদা পূরণের কাছেগ্রন্থাগারিক কোন অবস্থাতেই অসৎ পন্থার আশ্রয় গ্রহণ করবেন না।

৩। নির্ভুলতা: গ্রন্থাগারিক যে কোন বৈধ তথ্য চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদান করবেন। জেনে শুনে ভূল বা বিকৃত তথ্য প্রদান গ্রন্থাগারিকতার সুমহান আদর্শের পরিপন্থি।

৪। তথ্য বিনামূল্যে ও সমান প্রবেশাধিকার: জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার আছে। গ্রন্থাগারিকের কাজ হচ্ছে এই অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেটা নিশ্চিত করা। তথ্যে সব মানুষের অধিকার মৌলিক মানবাধিকার।

৫। স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি: গ্রন্থাগারিক কখনোই নিজে স্বার্থকে পাঠকের স্বার্থের উধ্বে কখনোই স্থান দেবে না। যে সব ক্ষেত্রে পাঠকের স্বার্থের সাথে গ্রন্থাগারিকের ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে সেসব ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ সততার পরিচয় দেবেন।

৬। বুদ্ধির মুক্তি: গ্রন্থাগারিকের অন্যতম নৈতিক কর্তব্য হচ্চে বুদ্ধি ও চিন্তাচেতনার স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখা। মানুষ নিজের স্বাধীন ইচ্ছা অনুসারে মত প্রকাশ ও মেধা প্রয়োগের স্বাধীনতা ধারণ করে। গ্রন্থাগারিক এই স্বাধীনতাকে সর্ব অবস্থায় সমর্থন করবেন।

৭। সর্বোচ্চ মানের সেবা: গ্রন্থাগারিকতা একটি সেবাধর্মী পেশা। এ কারণে গ্রন্থাগারিক তাঁর সকল পাঠককে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদানে অঙ্গিকারবদ্ধ থাকবেন।

৮। গ্রন্থাগারসমূহের মধ্যে সহযোগীতা: সব ধরনের গ্রন্থাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রন্তাগারিকরা নিজেদের মধ্যে সহযোগীতা বজায় রাখবেন। ফলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠককে সেবা প্রদান সম্ভব হবে।

৯। গ্রন্থাগার সম্পদ উন্নয়ন:গ্রন্থাগারিক তাঁর মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োগ ঘটিয়ে গ্রন্থাগারের তথ্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটাবেন। এই কাজে পাঠকের প্রয়োজন ও উচ্চ নৈতিক আদর্শ অনুযায়ী তিনি পরিচালিত হবেন।

১০। মেধাস্বত্ত্ব: গ্রন্থাগারিক মেধাস্বত্ত্বকে সম্মান করবেন। তাঁর কাজের দ্বারা যাতে মানুষের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ত্ব ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে তিনি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

১১। পেশার প্রতি দায়িত্বশীলতা: গ্রন্থাগারিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় মানুষের বৈধ ও নীতি সম্মত তথ্য চাহিদা পুরণই প্রধান লক্ষ্য। গ্রন্থাগারিক সর্ব অবস্থায় নিজের পেশার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন।

১২। অন্যান্য পেশা ও সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীলতা: গ্রন্থাগার সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ন সংগঠন। উত্তম সেবা দানের প্রয়োজনে এই সংগঠনকে অন্যান্য পেশা ও সংগঠনের উপর নির্ভর করতে হয়। গ্রন্থাগারিক তাই অন্যান্য পেশা ও সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল হবেন।

১৩। সহকর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা: গ্রন্থাগারিক নিজ পেশার অন্যান্য কর্মীদের প্রতিও দায়িত্বশীল হবেন। যাতে তাঁর আচারণ ও কর্মকান্ডের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ বা নিজ দায়িত্ব পালনের অপারগ না হয়।

১৪। পেশাগত উন্নতি: নানা রকম উদ্ভাবনী কলাকৌশল গ্রহণ এবং পঠন-পাঠন ও গবেষণার মাধ্যমে গ্রন্থাগারিক নিজের পেশাগত উন্নয়নের জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।

১৫। সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা: গ্রন্থাগার এই সমাজের একটি দায়িত্বশীল সংগঠন। এ কারণে সমাজের নাগরিক ও সামাজিক সংহতির প্রতি গ্রন্থাগারিক অবশ্যই নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।  

            পরিশেষে বলতে পারি যে, গ্রন্থাগার, গ্রন্থাগারিকতা ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞান একটি অপরটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। যে দেশের গ্রন্থাগার যত বেশি উন্নত সে দেশ তত বেশি তথ্য সম্পদশালী। গ্রন্থাগারে যে ব্যাক্তি পাঠকদের কাঙ্খিত ও সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করে তাকেই গ্রন্থাগারিক বলে। আর গ্রন্থাগারিকের এই পেশাকে গ্রন্থাগারিকতা বলে। আর গ্রন্থাগারিকতা অনেক গুলো নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।  উপরোক্ত আলোচনার নীতি গুলোই গ্রন্থাগারিকতার মূলনীতিসমূহ।

Saturday, May 5, 2018

গ্রন্থাগারের কার্যাবলী। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা।

**গ্রন্থাগারের কার্যাবলী:
আধুনিক গ্রন্থাগারগুলো প্রথাগত ধারণার বাইরে এসে পঠিকের জন্য নতুন নতুন সেবা প্রবর্তন করেছে। এর মধ্যে আছে মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক তথ্যসেবা, অনুবাদ, সারসংক্ষেপণ ও নির্ঘণ্টীকরণ, আন্ত:গ্রন্থাগার লেনদেন, ডকুমেন্ট ডেলেভারি ইত্যাদি সেবা। এসব সেবা আধুনিক গ্রন্থাগারকে একটি উৎকর্ষ কেন্দ্রে পরিনত করেছে। একটি গ্রন্থাগারের কার্যাবলিগুলো নি¤েœ আলোচনা করা হলো-
১। সংগঠন ও প্রশাসন: সংগঠন ও প্রশাসন দুটি পরস্পর সম্পর্কিত কর্মকান্ড। সংগঠনের কাজ হচ্ছে সাংগঠনিক কর্ম-কাঠামোর নকশা প্রণয়ন, বিভিন্ন অপারেটিং ইউনিট- যেমনবিভাগ, উপবিভাগ, শাখা ইত্যাদিতে কর্ম এলাকাগুলোকে ভাগ করা। আর প্রশাসনের কাজ হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকান্ডের জন্য কর্তৃত্বায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা।

২। গ্রন্থাগার সংগ্রহ গড়ে তোলা: গ্রন্থাগারিক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত বিভিন্ন নীতিপদ্ধতি এবং গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্যের সাথে মিল তথ্য সামগ্রী সংগ্রহ করবেন। গ্রন্থাগার সংগ্রহ গড়ে তোলা কোন সাধারণ কাজ নয়। এ কাজে বিভিন্ন তথ্য উৎস, গ্রন্থাগার সামগ্রীর ধরণ এবং উপযোগীতা সম্বন্ধে ব্যাপক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

৩। গ্রন্থাগার সংগ্রহকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা:  গ্রন্থাগারিককে তাঁর সংগ্রহীত তথ্য সামগ্রী এমনভাবে বিন্যাস্ত করতে হবে যাতে করে এসব এসব সামগ্রীর উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং সেই সঙ্গে এসব সামগ্রী ব্যবহারে ব্যবহারকারীর সুবিধাও নিশ্চিত হয়। কার্যকরভাবে তথ্য সমাগ্রী সংগঠনের জন্য সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করে একটি শক্তিশালী শ্রেণীকরণ পদ্ধতি।যার মাধ্যমে এই সামগ্রীসমূহ সহজেই ব্যবহারের উপযোগী হয়।

৪। ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করা: গ্রন্থাগার সামগ্রীর নির্বাচন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংগ্রহসহ যাবতীয় কর্মকান্ডের উদ্দেশ্য একটাই- ব্যবহারকারীদেরকে সবচেয়ে ভালোভাবে তথ্যসেবা প্রদান করা। গ্রন্থাগারের সার্কুলেশন এবং রেফারেন্স এ দুটো বিভাগ হচ্ছে সেই স্থান যেখানে পাঠক এবং তথ্যসামগ্রীর যোগসূত্র ঘটে।

৫। আর্থিক বিষয়াদি সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ: নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সহায়তা ছাড়া গ্রন্থাগার ও তথ্য প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কর্মকান্ড সম্পন্ন করা অসম্ভব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, একটি গ্রন্থাগারের আয়ের উৎস তেমন বেশি নয়। এগুলোর মধ্যে আছে: ঊর্ধ্বতন প্রতিষ্ঠান বা সরকার থেকে প্রাপ্ত অর্থ, অনুদান, উপহার, ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদা, জরিমানা ইত্যাদি। গ্রন্থাগারের যথাযথ পরিচালনার জন্য একটি বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করা জরুরী যেটি প্রস্তুত হবে বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের এবং গ্রন্থাগারের কর্ম-পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে। একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে তথ্য সামগ্রী সংগ্রহ, কর্মীদের বেতন, বিভিন্ন সেবা প্রদানের খরচ, বিভিন্ন উপকরণ, আসবাব ইত্যাদি ক্রয় এবং জরুরী খাতে খরচ।

৬। সচেতনতা বিস্তার: বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রন্থাগার ও তথ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথাগত সেবার পাশাপাশি নানা অপ্রথাগত কর্মকান্ড পরিচালনা করে। এসব কাজের অনেকগুলোই পরিচালিত হয় গ্রন্থাগারের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ থেকে। এর মধ্যে আছে, পাঠকেরা যাতে বহিস্থ বিভিন্ন তথ্য উৎসে প্রবেশ ও ব্যবহার করতে পারে সেজন্য একটি গেটওয়ে বা পোর্টাল হিসেবে কাজ করে, পাঠচক্র, সেমিনার, কর্মশালা ইত্যাদি আয়োজন, বয়স্ক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ, প্রকাশনা, গবেষণা, আর্থসামাজিক নানা বিষয়ে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

**আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা:
আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের অনেক ভূমিকা রয়েছে। নি¤েœ সেগুলোর আলোচনা করা হলো-

**আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা:
১। শিক্ষাদান: একাডেমিক গ্রন্থাগার শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের শিক্ষার্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। বিশেষত শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের সংগ্রহ ও সেবা থেকে সরাসরি উপকৃত হন। শিক্ষকরা যেমন শিক্ষাদানের প্রয়োজনে সরাসরি গ্রন্থাগারে রক্ষিত তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করেন তেমনি শিক্ষার্থীরাও তথ্যসামগ্রী পাঠ ও ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষালাভের জন্য নিজেদের প্রস্বতুত করেন। আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাই গ্রন্থাগার ছাড়া কল্পনা করা যায় না।

২। তথ্যপ্রদান: জ্ঞানের নানা শাখার তথ্য গ্রন্থাগারে রক্ষিত থাকে। তথ্য অনুসন্ধানী মানুষ গ্রন্থাগার থেকে সরাসরি তাদের নানাবিধ তথ্য চাহিদা পূরণ করে। আধুনিক গ্রন্থাগারগুলো নানা ধরণের মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক তথ্য উৎসে প্রবেশের জন্য নানা প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন। প্রকাশক বা পেশাদার তথ্য সরবরাহকারীদের ডাটাবেস থেকে সংগ্রহ করে সেটি তথ্যানুসন্ধানীদের মধ্যে বিতরণের জন্য গ্রন্থাগার আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি উপকরণ ব্যবহার করে থাকন।

৩। প্রশিক্ষণ: আধুনিক গ্রন্থাগার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সানবসম্পদ উন্নয়নের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে। গ্রন্থাগার হচ্ছে স্বশিক্ষিত মানেিষর আশ্রয় স্থল। অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি গ্রন্থাগার থেকেই আত্ম উন্নয়নের দীক্ষা নিয়েছেন। আধুনিক গ্রন্থাগার বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে যাতে পাঠক তাঁদের জ্ঞান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্যও বৃদ্ধি করতে পারেন।

৪। গবেষণা: আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় গবেষকদের নানামুখী চাহিদা পূরনের মাধ্যমে গ্রন্থাগারগুলোর জ্ঞানের অগ্রগতিতে অবদান রাখে। গ্রন্থাগারের সাহায্য ও দিক নির্দেশনা ব্যতীত গবেষকদের গবেষণার কাজ দারুনভাবে ব্যহত হয়। গ্রন্থাগারে রক্ষিত জ্ঞান ভান্ডার যেমন গবেষণা কাজে অবদান রাখে তেমনি গবেষকদের দিক নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে গ্রন্থাগারিকরা গবেষণা অংশীদার ও পরামর্শক হিসেবে তাঁদের ভূমিকা পালন করেন।

৫। প্রকাশনা: গ্রন্থাগারগুলো সরাসরি পুস্তক নির্বাচক হিসেবে ভূমিকা পালন না করলেও প্রকাশনা কাজে গ্রন্থাগারের প্রচুর অবদান রাখার সুযোগ আছে। বিশেষায়িত তথ্যসামগ্রী, যেমন- নির্ঘণ্ট, সংক্ষিপ্তসার, গবেষণা মনোগ্রাফ ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে গ্রন্থাগারগুলো আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় অপরিহার্য সহযোগীর ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও পাঠ্যবই, গবেষণা গ্রন্থ ইত্যাদি প্রকাশের মাধ্যমে কাজ করতে পারে গ্রন্থাগার।

**অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা:
১। দূরশিক্ষণ: বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলো দূর শিক্ষণের অন্যতম প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। গ্রন্থাগারগুলো নিজস্ব কর্মকান্ডের পাশাপাশি দূরশিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান, পাঠক্রম প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা মূল্যায়ন ইত্যাদি কাজ করে চলছে। উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও গ্রন্থাগারগুলো দূরশিক্ষণে ভূমিকা রাখছে।

২। কারিগরি শিক্ষা: অনেক গ্রন্থাগারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রন্থাগার গুলো যেমন সরাসরি মানব উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, তেমনি জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখার প্রয়াস পাচ্ছে।

৩। বয়স্ক শিক্ষা: গ্রন্থাগারে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষভাবে রাত্রিকালীন সময়ে বয়স্কশিক্ষার কার্যক্রম গ্রহন করা হচ্ছে। ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা শিক্ষালাভ করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারছেন।

৪। শিক্ষা সহায়তা: গ্রন্থাগারগুলো তাদের তথ্যভান্ডার ও শিক্ষা অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নানা রকম শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আছে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সহায়তা প্রকাশনা কার্যক্রম গ্রহণ, স্কুল ভিজিট, শিক্ষাসহায়তা উপকরণ প্রস্তুতকরণ ইত্যাদি।

৫। সচেতনতা বিস্তার: গ্রন্থাগারগুলো সেমিনার, কর্মশালা, পাঠ্যচক্র ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা বিস্তার করে থাকে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

৬। পরামর্শ সেবা: গ্রন্থাগারগুলো অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় পরামর্শদানের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের মান দিন দিন বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলছে। সেসব প্রতিষ্ঠান অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় তারা তথ্যসামগ্রী সংগ্রহ ও সংগঠন, তথ্যসেবা, তথ্য অনুসন্ধান ও পুনরুদ্ধার, তথ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কাজে গ্রন্থাগারের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে থাকে।

                                      পরিশেষে বলা যায় যে, গ্রন্থাগার একটি দেশের ঐতিহ্য বহন করে। দেশের ইতিহাস, শিক্ষাব্যবস্থা সহ আরো অনেক আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে। তাছাড়া গ্রন্থাগার হচ্ছে একটি জীবন্ত উপকরণ। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে অতীতের তথ্য সংগ্রহ করে রাখা হয় বর্তমান প্রজন্মকে সেবাদানের ক্ষেত্রে এবং গ্রন্থাগার অতীত ও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে তথ্যের সেতুবন্ধন গড়ে তোলতে সাহায্য করে। এবং গ্রন্থাগার বর্তমানের তথ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে রাখে যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে। এবং তাদের মধ্যে সেবুবন্ধন গড়ে ওঠে।

Thursday, April 26, 2018

গ্রন্থাগার কাকে বলে? গ্রন্থাগার কত প্রকার ও কি কি?


 ভূমিকা: সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মানুষের নির্ভরযোগ্য এক সঙ্গী গ্রন্থাগার। জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান সংরক্ষণ এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের জ্ঞানের প্রবাহ নিশ্চিত করেছে গ্রন্থাগার। সেই সঙ্গে সমাজের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

**গ্রন্থাগার:
গ্রন্থাগারের ইংরেজি প্রতিশব্দ ’Library’। Library শব্দের উৎপত্তি হয়েছে মূলত ল্যাটিন শব্দ ’Liber’ থেকে। Liber শব্দটি থেকে এসেছে Librarium শব্দটি, যার অর্থ ’বই রাখার স্থান’। এর থেকে উদ্ভূত হয়েছে ফরাসি শব্দ librairie, যা অর্থ ’বইয়ের সংগ্রহ’, এখান থেকে অ্যাংলো ফ্রেঞ্চ শব্দ librarie এবং সব শেষে ইংরেজি  Library। গ্রন্থাগার বলতে সাধারনত যেখানে তথ্য সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়, সংরক্ষণ করা হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পাঠককে প্রদান করা হয় তাকেই বোঝায়।
তাই বলা যায়, গ্রন্থাগার একটি জীবন্ত উপকরণ, যা অতীতের সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করে রাখে বর্তমান প্রজন্মের ব্যবহার করার জন্য । ইহা এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা অতীত এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে এবং তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে যা তথ্য সমূহের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।

**প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
**ইউনিস্কো-এর মতে,
”মুদ্রিত বই, সাময়িকী অথবা অন্য যে কোন চিত্রসমৃদ্ধ বা শ্রবণ-দর্শন সামগ্রীর একটি সংগঠিত সংগ্রহ হল গ্রন্থাগার। যেখানে পাঠকের তথ্য, গবেষণা, শিক্ষা অথবা বিনোদন চাহিদা মেটানোর কাজে সহায়তা করা হয়।”

**J. H. Shera এর মতে, “The library is an organization, a system designed to preserve and facilitate the use of graphic records.”

**C. C, Aguolu & I. E. Aguolu এর মতে, ”গ্রন্থাগার হচ্ছে মানুষের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেরে নথিপত্রের সমষ্টি যেটি নানা ফরম্যাট ও ভাষায় সংগঠন ও ব্যাখ্যা করা হয়। গ্রন্থাগার মানুষের জ্ঞান, বিনোদন ও নান্দনিক উপভোগের নানা চাহিদা পূরণ করে।”

**সেনগুপ্ত ও চক্রবর্তী-এর মতে, ”গ্রন্থাগার হলো এমন একটি সংগঠন যেখানে বই, পত্র পত্রিকাও সমজাতীয় উপকরণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়।”

**গ্রন্থাগারের প্রকারভেদ:
গ্রন্থাগার নানা প্রকারের হয়ে থাকে। সাধারনত প্রতিষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থাগারকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। জাতীয় গ্রন্থাগার
২। গণগ্রন্থাগার
৩। একাডেমিক গ্রন্থাগার
৪। বিশেষ গ্রন্থাগার।

১। জাতীয় গ্রন্থাগার: জাতীয় গ্রন্থাগার সাধারনত দেশের সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। অন্যান্য গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পেছনে যে সকল কারণ বিদ্যমান, এ ক্ষেত্রেও তার সবগুলো কারণ বিদ্যমান। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আর এটি হয় এজন্য যে, জাতীয় পর্যায়ের গ্রন্থাগার অন্য আর দশটি অনুরূপ প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি একটি নন-লেন্ডিং প্রতিষ্ঠান। মূলত: জাতীয় গ্রন্থাগার এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার সংগ্রহের পরিধি জাতীয় ভিত্তিক, গুরুত্ব আন্তর্জাতিক এবং দেশ ও জাতি সম্পর্কে দেশী-বিদেশী সকল প্রকাশনা সংগ্রহ করে জাতীয় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২। গণগ্রন্থাগার: পাবলিক লাইব্রেরি বা গণগ্রন্থাগার জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়। সমাজের সকল স্তরের লোকের চাহিদা পূরণের জন্য এর উৎপত্তি ও বিকাশ। অন্য কোন গ্রন্থাগার এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এমনকি এর মত বহুমূখি সেবা দিতেও প্রস্তুত নয়। সমগ্র জাতিকে পরিকল্পিত উপায়ে সাহায্য করা এর লক্ষ্য, বিশেষ করে বুদ্ধির পরিপক্কতা অর্জনে সহায়তা গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে একটি। সমাজে সকল প্রকারের সদস্য ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ, মহিলা ও বিভিন্ন পেশাজীবী যেহেতু এর ব্যবহারকারী সুতরাং আবশ্যিকভাবে সংগ্রহ করা হয়ও বহুমূখী।

৩। একাডেমিক গ্রন্থাগার: একাডেমিক গ্রন্থাগার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গবেষনা প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব গ্রন্থাগারে কেবল পাঠ্য ও পাঠ্য সহায়ক উপকরণই থাকে না, পাশাপাশি বিভিন্ন রেফারেন্স সামগ্রীসহ বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য উপকরণ সংগ্রহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে অন্যতম উদ্দেশ্য থাকেগবেষকদের প্রয়োজনীয় পাঠ্য উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চায় অগ্রসর পর্যায়ে সহায়তা জোগানো।

৪। বিশেষ গ্রন্থাগার: বিশেষ গ্রন্থাগার আসলে এক ধরনের গবেষণা গ্রন্থাগার, যাকে আমরা টেকনিক্যাল লাইব্রেরিও বলি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে নানা বিষয়ে গবেষণা কর্মের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। এই গবেষণা কর্মে সহায়তা জোগানোর জন্যই বিশেষ গ্রন্থাগারের আবির্ভাব। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞান, সমাজবিজ্হান ইত্যাদি নানা বিষয়ে তথ্য উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে বিশেষ গ্রন্থাগারগুলো সমাজে এক ব্যাতিক্রমী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি সাজেশন, কোর্স নম্বর: ১০১


 গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি
কোর্স নম্বর: ১০১
১। গ্রন্থাগার কাকে বলে? গ্রন্থাগার কত প্রকার ও কি কি? গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা কর। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় গ্রন্থাগারের ভূমিকা আলোচনা কর।
২। গ্রন্থাগারিক কারা? গ্রন্থাগারিকতার মূলনীতি কি? গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
৩। প্রাচীন কালের গ্রন্থাগারগুলো উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ও পতনের ইতিহাস আলোচনা করা।
৪। আধুনিক গ্রন্থাগার হিসেবে ’দি ব্রিটিশ লাইব্রেরি’র উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
৫। ’লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’ এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।
৬। এস. আর. রঙ্গনাথনের পঞ্চনীতি আলোচনা কর।
৭। কমিউনিটি তথ্যসেবা কাকে বলে? ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা আলোচনা কর।
৮। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র ককে বলে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রন্থাগার শিক্ষা আলোচনা কর।
৯। গণগ্রন্থাগার ও বিশেষ গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
১০। জাতীয় গ্রন্থাগার ও একাডেমিক গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী আলোচনা।
১১। তথ্যসেবা ও রেফারেন্সসেবা কাকে বলে? তথ্যসেবা ও রেফারেন্স সেবা কত প্রকার ও কি কি? তথ্যসেবা ও রেফারেন্স সেবার মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।
১২। ডকুমেন্ট ডেলিভারি সার্ভিস ও রেফারেল সার্ভিস কাকে বলে। ডকুমেন্ট ডেলিভারি সার্ভিস ও রেফারেল সার্ভিসের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
১৩। গ্রন্থাগার সেবা কাকে বলে? গ্রন্থাগার সেবার শ্রেণীবিভাগ আলোচনা কর।
১৪। তথ্যবিজ্ঞান কাকে বলে? তথ্য বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য ও পরিধি আলোচনা কর।
১৫। তথ্যের উৎস ও মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।
১৬। রেফারেন্স সামগ্রী কাকে বলে? বিভিন্ন ধরণের রেফারেন্স সামগ্রী আলোচনা কর
১৭। তথ্যের বিস্ফোরণ বলতে কি বোঝ? তথ্যের বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণের উপকরণসমূহ আলোচনা কর।

6 Educational Institutes’ affiliation cancelled National University

6 Educational Institutes’ affiliation cancelled
National University

The affiliation of six educational institutions under the National University (NU) has been cancelled as they failed to fulfill the required conditions.

The decision, which was taken in the 144th syndicate meeting as per recommendations of the 79th academic council, was disclosed in a press release on Wednesday.

The release said that the affiliation of six educational institutions has been cancelled for their failure to meet required conditions.

The institutions are SB Science and Technology of Bogra, Bogra THBP and College, Bogra BP Advocate College, Bogra Library Science College, Institute of Library Arts of Khulna and Institute of Library and Information Science of Chittagong.

বই রিভিউ করার ৬(ছয়)টি সহজ ধাপ

বই রিভিউ করার ৬(ছয়)টি সহজ ধাপ

কীভাবে বই রিভিউ করা যায়, সে বিষয়ে আমরা গ্রন্থগত ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি রচনা প্রকাশ করেছি। বই আলোচনা করার নানা রকম নিয়ম কানুনের সাথে পরিচিত হয়েছি। সেসব আলোচনায় বিস্তারিতভাবে বই রিভিউয়ের পদ্ধতির সাথে পাঠককে সচেতন করে তোলার প্রচেষ্টা ছিল। আজ আমরা ছয়টি সহজ ধাপ অনুসরণ করে বই রিভিউ করার পদ্ধতি জানবো।

প্রথম ধাপঃ
একটি পছন্দসই বই নির্বাচন করুন

যে বইয়ের রিভিউ করতে চান, তার সাথে আপনাকে বেশ কিছুটা সময় কাটাতে হবে। অতএব নিজের কাজের সুবিধা ও মনের সন্তুষ্টির জন্য একটি আকর্ষণীয় বই পছন্দ করুন। কোন বই আপনার কাছে আকর্ষণীয় লাগবে তা যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবদের সাহায্য নিন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। যেহেতু তারা আপনার বন্ধু, সেহেতু আপনাদের পরস্পরের মনের গঠন অনেকটা একই রকমের। অতএব, তাদের পছন্দের সাথে আপনার পছন্দ মিলে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপঃ
যিনি আপনার আগে পড়েছেন তাকে জিজ্ঞাসা করে বইটির সারাংশ জেনে নিতে পারেন

কিন্তু মনে রাখবেন নিজে পড়ার কোন বিকল্প নেই। তার চোখে হয়তো অনেক কিছু এড়িয়ে যেতে পারে, তার ভাললাগার সাথে আপনার ভাললাগার মিল নাও থাকতে পারে। তাই বইটি পড়ার জন্য একটুখানি সময় বরাদ্দ রাখুন। এতে আপনার পড়ার দক্ষতা ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও বইয়ের মধ্যে থাকা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি আপনার চোখে পড়বে; যা হয়তো অন্যের চোখে নাও পড়তে পারে। অন্যদের কাছে সারাংশ শুনলে বইটি সম্পর্কে একটু ধারণা তৈরি হবে, কিন্তু ছোটখাট আকর্ষণীয় অংশগুলো চিহ্নিত করার জন্য সম্পূর্ণ বই পড়ার সত্যিই কোন বিকল্প নেই।

তৃতীয় ধাপঃ
পড়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অংশ খাতায় লিখে নিন

বই পড়ার সময় সবসময় হাতে একটি পেনসিল রাখুন। রাফ খাতায় প্রয়োজনীয় অংশ লিখে রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বাক্য, বাক্যাংশ, অনুচ্ছেদ কোন কিছু বাদ দেবেন না। একই সাথে পৃষ্ঠা নম্বর লিখে রাখুন। তাহলে পরে চট করে খুঁজে নিতে সুবিধা হবে। বইয়ের কাহিনীর মধ্যে কোন বিশেষ ঘটনা রয়েছে কি, কোন বর্ণনা বা কাহিনীর কোন অংশ কি ভিন্নরকম মনে হচ্ছে, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে নোটখাতায় লিখে নিন।

যখন পূর্ণাঙ্গ বিবরণী লিখবেন তখন নোটখাতায় লেখা অংশগুলি আপনাকে খুব সাহায্য করবে। বারবার সমস্ত বইয়ের পাতা উল্টে উল্লেখযোগ্য অংশ খুঁজতে হবে না।

চতুর্থ ধাপঃ
বই বিবরণীর খন্ডাংশ অনুচ্ছেদ আকারে লিখুন

লেখার ধারাবাহিকতা যেন নষ্ট হয়ে না যায় সেজন্য বই বিবরণীকে একটু একটু করে লিখুন। মনে মনে সমস্ত আলোচনাটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। তারপর প্রথম অংশ, দ্বিতীয় অংশ, তৃতীয় অংশ, চতুর্থ অংশ- এভাবে লিখুন। এতে আপনার লেখা তাল হারিয়ে ফেলবে না।
বইয়ের প্রথম দিকের ঘটনাগুলো আগে লিখুন। কাহিনীর সূচনা, চরিত্রের আগমন বা বিশেষ কোন ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করুন। বইয়ের মাঝের অংশ কিভাবে সাজানো হয়েছে? নতুন কোন চরিত্রের আগমন ঘটেছে কি? প্রধান চরিত্রের আচরণে কোন পরিবর্তন হয়েছে কি? আলোচনার শেষ অংশ বইয়ের উপসংহার বর্ণনা করুন। কীভাবে কাহিনী এগিয়েছে, কীভাবে ঘটনাগুলো পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে তার বিবরণ দিন। লেখক কাহিনীর কোন অংশে ঘটনার তীব্রতা কীভাবে সৃষ্টি করেছেন, কীভাবে পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তার দিকে মনোযোগ দিন।

এভাবে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে বই পড়লে এবং লিখতে থাকলে দেখবেন অল্প পরিশ্রমে সমস্ত বইয়ের আলোচনা করা হয়ে গিয়েছে। আপনি নিজের মতো করে বইয়ের বিবরণী লিখতে পারেন। কিন্তু এভাবে খন্ডে খন্ডে ভাগ করে লিখলে আপনারই সুবিধা হবে।

এবার সবশেষে নিজের মন্তব্য লিখুন। বইটি সম্পর্কে আপনার মতামত, ভাললাগা বা খারাপ লাগার বিষয়গুলো স্পষ্ট করে ঠিকঠাক উদাহরণসহ তুলে ধরুন। পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ করতে ভুলবেন না যেন।

পঞ্চম ধাপঃ
কয়েকদিনে বইটি পড়ুন

আপনি একদিনে এক বসাতেই সমস্ত বই পড়ে শেষ করে লিখতে বসতে পারেন। কিন্তু যদি প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট করে পড়েন ও সেই অংশটুকুর বিবরণী লিখে রাখেন তাহলে অনেকটা চাপমুক্ত থাকতে পারবেন।
যদি একদিনে লিখে শেষ করতে চান তাহলে একসাথে কয়েক ঘন্টা ধরে আপনাকে বইটি পড়া ও তার বিবরণী লেখার কাজ করতে হবে। এটা অনেকের কাছে বেশ পরিশ্রমসাধ্য মনে হতে পারে। বিভিন্ন রকমের সামাজিক ও পারিবারিক কাজেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। তার চেয়ে যদি কয়েকদিনে প্রতিদিন আধঘন্টা করে সময় ব্যয় করেন, তাহলে অনেকটা ভারমুক্ত হয়ে বই বিবরণী লেখার কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন।

ষষ্ঠ ধাপঃ
ত্রুটি সংশোধনের জন্য অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিন

বই বিবরণী লেখা শেষ হলে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নেয়া যেতে পারে। অনেক সময় নিজের লেখার ভুল নিজের চোখে ধরা পরে না। শব্দ চয়ন, বাক্যভঙ্গি বা বাক্য সজ্জ্বা, লেখার ভঙ্গিসহ বিভিন্ন জায়গায় নিজের অজান্তেই ভুল থেকে যেতে পারে। সেজন্য অন্য আরেকজনকে দেখালে সেসব ভুল নির্ণয় করা সহজ হয়ে যায়।

এভাবে ধাপে ধাপে বই রিভিউয়ের কাজ এগিয়ে নেয়া শেষে একটি সম্পূর্ণ মানসম্পন্ন র